ঢাকাশুক্রবার , ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২
  1. Btribune Eng
  2. আন্তর্জাতিক
  3. এক্সক্লুসিভ
  4. খেলার বার্তা
  5. চাকুরি – শিক্ষা
  6. জাতীয়
  7. ধর্ম
  8. বিজ্ঞান – প্রযুক্তি
  9. বিনোদন
  10. রাজনীতি
  11. লাইফ স্টাইল
  12. স্যোসাল মিডিয়া

মাঝিকে স্বর্ণের দুল দিয়ে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা নারী

Ar Monna
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২২ ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মাঝিকে স্বর্ণের দুল দিয়ে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা নারী রাখাইনে সেনা অভিযান চলায় জীবন বাঁচাতে ফের বাংলাদেশে ঢুকছেন রোহিঙ্গারা
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। এর মধ্যেই গত একমাসে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মিয়ানমারে আবারো নির্যাতিত হয়ে রোহিঙ্গারা নতুন করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একটি সূত্র জানায়, মিয়ানমারে নতুন করে সংকট শুরুর পর গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত তিনটি পরিবার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের আত্মীয়দের বাড়িতে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

জানতে চাইলে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন-৮) কমান্ডিং অফিসার আমির জাফর বলেন, ‘আমরা শুনেছি, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মাসব্যাপী অস্থিরতার পর কিছু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এরই মধ্যে সতর্কতা বাড়িয়েছি। যাতে কেউ ক্যাম্পের ভেতরে প্রবেশ করে আশ্রয় নিতে না পারে। সীমান্তবর্তী এলাকায়ও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।’

ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, একটি পরিবার বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পেরেছে। কিন্তু পরিবারের প্রকৃত অবস্থান এখনো আমরা শনাক্ত করতে পারিনি।’

নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টার বিষয়ে পুলিশের একজন অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক বলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা অতিরিক্ত চাপে পড়ে গেছি। প্রতিদিনই রোহিঙ্গারা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তারা (রোহিঙ্গা) ভারসাম্যও নষ্ট করছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন করে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গারা প্রাথমিকভাবে কক্সবাজার কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খোঁজ শুরু করলে তারা আত্মগোপনে চলে যান।

সর্বশেষ দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা দাবি করেছেন, রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর হাতে আবারো নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সম্প্রতি ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া এক রোহিঙ্গা নারী বলেন, আমি মিয়ানমারের বুথিডাং গ্রামের বাসিন্দা। সেনাবাহিনী ও মগরা আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে। এলাকা ছেড়ে মংডুতে আশ্রয় নিতে বলেছে। নির্যাতন ও জীবন হারানোর ভয়ে আমরা সব ছেড়ে এ ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছি।

কক্সবাজারের ক্যাম্পে কীভাবে এলেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাকে ক্যাম্পে পৌঁছাতে প্রায় ১০ দিন সময় লেগেছে। নাফ নদী পার করে এপারে পৌঁছে দিতে রাজি হয় একজন নৌকার মাঝি। তাকে আমার কানের দুল দিয়ে দিয়েছি। এরপর তিনি আমাকে নদী পার হতে সাহায্য করেছেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, সদ্য স্থানান্তরিত রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, শাপুরী দ্বীপের বিপরীতে মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় আরও কিছু পরিবার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গতকাল আমরা খবর পেয়েছি, কিছু রোহিঙ্গা পরিবার মিয়ানমারের সাহবাজার এলাকায় জড়ো হয়েছে। তারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সতর্কতা বাড়িয়েছে।

বিজিবি-২-এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার বলেন, সীমান্ত রক্ষায় আমরা সবসময় সজাগ রয়েছি।

শাপুরী দ্বীপের মাছের দোকানি এমদাদুল্লাহ বলেন, গত সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে আমি দ্বীপের জেটিতে চার থেকে পাঁচটি রোহিঙ্গা দলকে দেখেছি। প্রত্যেক দলে তিন থেকে চারজন সদস্য রয়েছেন। তারা কিছু খুঁজছিলেন।

তবে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে নাকি ক্যাম্প থেকে বের হয়ে এলাকায় ঘোরাঘুরি করেছে, তা স্পষ্ট করতে পারেননি এমদাদুল্লাহ।

সূত্র জানায়, এসব এলাকায় নাফ নদী খুব বেশি প্রশস্ত না হওয়ায় চৌধুরী পাড়া, লেদাবাজার, লম্বাবিল, জাদিমুরা ও বরোতলী পয়েন্ট থেকে রোহিঙ্গার বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। দুই পাশের সীমান্তে কিছু দালাল রয়েছে, যারা মূলত রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে নদী পার হতে এবং এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে সাহায্য করার জন্য কাজ করছেন।

অন্য একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া কিছু রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য ট্রানজিট ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।

সদ্য আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গাদের ট্রানজিট ক্যাম্পে স্থানান্তরের বিষয়ে জানতে চাইলে কুতুপালং নিবন্ধিতি ক্যাম্পের ইনচার্জ মোহাম্মদ আক্তার হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কুতুপালংয়ের আরেকটি নিবন্ধিত ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. শায়েদ ইকবাল বলেন, আমার কাছে নতুন কোনো রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার তথ্য নেই। নতুন কোনো রোহিঙ্গাকে যেতে না দেওয়ার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। নতুন কোনো রোহিঙ্গা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছিলেন, মিয়ানমারের কোনো নাগরিককে বাংলাদেশে আর প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।